পূজার ছুটিতে নোবিপ্রবিতে পর্যটকদের ভিড়, কাশফুলে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৩-১০-২০২৬ ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-১০-২০২৬ ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের কোলাহল নেই। নেই ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততা। তবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এখন অন্য রকম প্রাণচাঞ্চল্য। শরতের সাদা কাশফুল, সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস, নীল দিঘি আর ছায়াঘেরা নিরিবিলি পরিবেশের টানে ক্যাম্পাসে আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। আবার কেউ মেতে উঠছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরোতেই চোখে পড়ে গোলচত্বর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি অনেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাচ্ছেন।
তবে শরতের এই সময়ে দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দুই পাশের কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুলের সারি আর খোলা আকাশের নিচে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ধরে রাখছেন ক্যামেরায়।
ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা এক নারী দর্শনার্থী বলেন, ‘শরৎ মানেই কাশফুল। শরতে কাশফুলের সঙ্গে একটি ছবি তুলতে না পারলে যেন শরৎ উপভোগই অপূর্ণ থেকে যায়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। ক্যাম্পাসের কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আর চারপাশের সৌন্দর্য খুব ভালো লাগছে।’
কাশফুলের সৌন্দর্য টানছে ছোটদেরও। বাবার সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছে ছোট্ট মেয়ে তুলি। ক্যাম্পাসে এসে কাশফুল দেখে খুশি সে। কখনো কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে, কখনো বাবার সঙ্গে ছবি তুলছে। শরতের সাদা কাশফুলের সঙ্গে ছবি তোলার আনন্দে মেতে উঠেছে শিশুটি।
ক্যাম্পাসের আরেক আকর্ষণ নীল দিঘি। বিশাল জলাধারটির চারপাশে রয়েছে গাছপালা ও সবুজের সমারোহ। দিঘির পাড়ে বসে কেউ গল্প করছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরছেন। পানির ওপর বাতাসের ঢেউ আর চারপাশের নিরিবিলি পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে জায়গাটিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়।
কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসংলগ্ন ছায়াঘেরা স্থান ‘শান্তিনিকেতন’ও টানছে দর্শনার্থীদের। বড় বড় গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর পাতার মর্মরধ্বনিতে জায়গাটিতে তৈরি হয়েছে প্রশান্তিময় পরিবেশ। ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা সময় কাটাতে এখানে বসছেন অনেকে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী নোবিপ্রবি ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘নোবিপ্রবির প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করেছে। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, সেখানে পাহাড় ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ছিল। নোবিপ্রবিতে পাহাড় না থাকলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই। ক্যাম্পাসটি বেশ নিরিবিলি ও পরিকল্পিত মনে হয়েছে।’
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য শুধু কাশফুল কিংবা জলাধারেই সীমাবদ্ধ নয়। দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন, বৃক্ষশোভিত সড়ক, সাজানো বাগান আর খোলামেলা পরিবেশও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। প্রকৃতি ও স্থাপনার মেলবন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
প্রথমবার নোয়াখালীতে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, ‘নোবিপ্রবি ঘুরে দেখার পরিকল্পনা আগেই করেছিলাম। এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। ক্যাম্পাসটি সুন্দর, শান্ত ও পরিচ্ছন্ন। পড়াশোনার পরিবেশের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানোর জন্যও জায়গাটি ভালো লেগেছে।’
সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে নোবিপ্রবি যেন শিক্ষার্থীদের চেনা ক্যাম্পাসের বাইরেও এক ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছে। শরতের কাশফুল, নীল দিঘি, ময়নাদ্বীপ আর সবুজে ঘেরা পরিবেশে এখানে মিলছে অবসর কাটানোর সুযোগ।
আর তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ব্যস্ততা না থাকলেও প্রকৃতির টানে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে আলাদা আমেজ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স